পাবনা প্রতিনিধি:
প্রবাসীদের স্ত্রীদের টার্গেট করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিয়ের প্রলোভন এবং ব্যবসায়িক অংশীদার করার আশ্বাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে পাবনার ২৪ মাইল বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মিল্টনের বিরুদ্ধে। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক নারীকে ঘিরে বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগও সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, অভিযুক্ত মিল্টন তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান সীমান্ত টেলিকম ও ডাচ্-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের পরিবারের নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন কৌশলে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রবাসীদের স্ত্রীদের ব্যবসায়িক অংশীদার করার আশ্বাস দিয়ে ব্যাংকিং লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ মাইল বাজারসংলগ্ন দুর্গাপুর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে বিয়ে এবং পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
পরিবারটির অভিযোগ, গত ৩০ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দেওয়ার পর ৩১ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর আমিনপুর থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে তদন্তে যান।
এদিকে, পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগকারীদের দাবি, আমিনপুর থানার এসআই সাদিকুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপি নেতা ফজলুল হককে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে গোপনে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেছেন।
অভিযুক্ত মিল্টনের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক নারীকে ঘিরে একই ধরনের সম্পর্ক, বিয়ে ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রী দিনাজপুরের বাসিন্দা পরবর্তীতে তাদের বিচ্ছেদ হয়। দ্বিতীয় স্ত্রী বিষ্ণুপুর গ্রামের তার সঙ্গেও তালাক হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তৃতীয় স্ত্রী সাথী বর্তমানে সংসার করছেন বলে জানা গেছে। চতুর্থ নারী সাঁথিয়া উপজেলার পাগলা গ্রামের প্রবাসী আলামিনের স্ত্রী বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং প্রতারণার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ৩০ আগস্ট ২০২৬ দুর্গাপুর মিয়াপাড়া এলাকার হামেদ আলীর মেয়েকে বিয়ের পর তাকে নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং প্রবাসীদের স্ত্রীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে সম্পর্ক তৈরি এবং পরে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান মিল্টন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। তাদের প্রশ্ন একাধিক অভিযোগের পরও যদি বিষয়গুলো আপস-মীমাংসার মাধ্যমে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে কারা জড়িত?
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের।


