নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীনগর এলাকায় সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপণ করা ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনকারী উপজেলার শ্রীনগর ডাকঘর এলাকার বাসিন্দা মো. সাদেক আলী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপণ করা ৫৩টি ইউক্যালিপটাস গাছের মধ্যে ২৮টি পরিপক্ব গাছ কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কেটে বিক্রি করা হয়েছে। এতে সরকারের প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে মাসুদ রানা, আজাহার আলী, আবুল কালাম ও জুয়েল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জোহেরুল করিম, মামুন মিয়া, আনোয়ার হক, জয়নাল হক, লিটন রহমান ও মো. মোকছেদের সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কাটা গাছের কিছু অংশ দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। বর্তমানে অভিযুক্তরা সরকারি খাস জমি দখলেরও চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকারি সম্পদের আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে আবেদনকারী দাবি করেন।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত মাসুদ রানা বলেন,
গাছ কাটা হয়েছে, এটা সত্য। তবে আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে গাছ কাটিনি। আমাদের এলাকায় একটি অবহেলিত মসজিদ রয়েছে। সেই মসজিদের উন্নয়নের জন্য এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে গাছগুলো কাটা হয়েছিল।
পরে বিষয়টি আইনি জটিলতায় পড়লে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। বর্তমানে গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জব্দ করে ভাবিচা ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলে আমি জানতে পেরেছি।
তাকে উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে গাছ কাটা হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না, আমরা কোনো অনুমতি নিইনি। যেহেতু গাছগুলো মসজিদের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাটা হয়েছিল, তাই অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটেছিলাম।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুর্শিদা খাতুন বলেন, গাছ কাটার ঘটনা জানার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাটা গাছগুলো জব্দ করে ভাবিচা ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগপত্রের অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছেও প্রেরণ করা হয়েছে।


