এম,এ,মান্নান,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
নওগাঁয়আদিবাসী নারীদের মাঝে খরা-প্রতিরোধী হাঁস-মুরগির ঘর বিতরণ জলবায়ুপরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায়প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অভিযোজনের পথে প্রস্তুত করতে এবং নারীদের আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল ঘাসফুল কেয়ার প্রকল্প।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহায়তায়বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায়নওগাঁজেলার বদলগাছী উপজেলার জিওল আদিবাসী পাড়ায়আজ ৪ঠা আগস্ট সোমবার ২৩ জন আদিবাসী নারী সদস্যের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে খরা-প্রতিরোধী ও স্বাস্থ্যসম্মত হাঁস-মুরগির ঘর।
বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত
জাহান ছনি। তিনি বলেন, “জলবায়ুপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অভিযোজিত করার
পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা সময়ের দাবি। ঘাসফুলের এই মানবিক ও
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে আমি আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঘাসফুল কেয়ার প্রকল্পের ব্যবস্থাপক নিশাত তাসনিম। বক্তব্য রাখেন
ঘাসফুল বদলগাছী শাখার ব্যবস্থাপক রকিবুল আলম। বক্তারা জানান, এই প্রকল্প শুধুপ্রযুক্তিগত সহায়তা
নয়, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি জীবিকাভিত্তিক অভিযোজন কৌশল—যা জলবায়ুসংকটে নারী নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। ঘরগুলোর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে: তিনদিকে নেট সংযুক্তি, যা আলো ও বাতাস চলাচল নিশ্চিত করে, যেখানে রয়েছে ব্রিডিং উপযোগী পৃথক চেম্বার এবং খরা সহনশীল আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়। প্রকল্প ব্যবস্থাপক নিশাত তাসনিম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুএকটি ঘর নয়বরং জলবায়ুপরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে আদিবাসী নারীদেরকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। এতে তারা যেমন পরিবারে অবদান রাখতে পারবেন, তেমনি জলবায়ুসংকট মোকাবিলায়ও সক্রিয়ভূমিকা পালন করবেন” প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর ও বদলগাছী ইউনিয়নের বিভিন্ন আদিবাসী গ্রামে এখন পর্যন্ত ৫০টি মুরগির ঘর বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর স্থানীয়জলবায়ুপরিস্থিতির কথা মাথায়রেখে তৈরি—বিশেষ করে অতিরিক্ত গরম ও খরায়হাঁস-মুরগির রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও ইতোপূর্বে ঘাসফুল কেয়ার প্রকল্পের আওতায়আদিবাসী কৃষকদের জন্য খরা সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব সবজি বাগানের প্রদর্শনী প্লট স্থাপনে সরবরাহ করা হয়েছে ফেরোমন ট্র্যাপ, ইয়োলো
স্টিকি ট্র্যাপ, জৈব বালাইনাশক ‘কিউট্র্যাক মেল’ এবং বিশেষ নেটিং সিস্টেম। এই সমন্বিত বালাইনাশক
ব্যবস্থাপনা পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মাটির গুণাগুণ বজায়রাখছে এবং রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে
কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। এ উদ্যোগ স্থানীয়কৃষকদের মাঝে উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া
ফেলেছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আরও পরিবারকে এধরণের সহায়তা প্রদান করা হবে। তারা মনে করেন, এই উদ্যোগ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবিকা নিরাপত্তা, নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন প্রক্রিয়ায়একটি কার্যকর উদাহরণ হয়ে উঠবে।


