আলী আজগর রবিন স্টাফ রিপোর্টারঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায়, যা দেশের ‘সয়াল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত, চলতি মৌসুমে সয়াবিন চাষীদের স্বপ্ন এখন বৃষ্টির পানিতে ভাসছে। একদিকে আকস্মিক কালবৈশাখী ও টানা বর্ষণ, অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক বা লেবার সংকট—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো কৃষক।
আবহাওয়ার বৈরী আচরণ
মার্চ ও এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে অনুকূল আবহাওয়ায় সয়াবিনের বাম্পার ফলনের আশা জাগলেও, মে মাসের শুরুতেই চিত্র বদলে গেছে। টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে মাঠের পাকা ও আধাপাকা সয়াবিন হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে চরবংশী, চরআবাবিল ও মেঘনা উপকূলীয় চরাঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কৃষকরা জানিয়েছেন, ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা এখন ব্যাংক ও এনজিও-র ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
তীব্র শ্রমিক (লেবার) সংকট
আবহাওয়ার এমন অবস্থায় যখন দ্রুত ফসল ঘরে তোলা জরুরি, তখনই দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। স্থানীয় শ্রমিকরা জানিয়েছেন:
মজুরি বৃদ্ধি: বৃষ্টির মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করায় শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০-৩০% বেড়ে গেছে।
শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর: বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাইরের জেলা থেকে আসা মৌসুমী শ্রমিকদের সংখ্যা এবার অনেক কম। ফলে আকাশ পরিষ্কার থাকা অল্প সময়েও সব কৃষক একসাথে শ্রমিক জোগাড় করতে পারছেন না।
কাটা ও মাড়াইয়ে বিঘ্ন: বৃষ্টির কারণে সয়াবিন গাছ ভেজা থাকায় তা কাটা ও মাড়াই করা দ্বিগুণ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, যা শ্রমিকদের কাজে অনাগ্রহ তৈরি করছে।
কৃষি বিভাগের বক্তব্য
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবার উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হয়েছে। বৃষ্টির পানি যাতে দ্রুত নেমে যায়, সেজন্য কৃষকদের নালা তৈরি ও ৮০ শতাংশ পাকা সয়াবিন দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও সরকারি প্রণোদনা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
কৃষকদের আর্তনাদ
চরকাছিয়া এলাকার কৃষক মিলন মিয়া বলেন, “বুক সমান পানিতে নেমেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। একদিকে ফসল পচে যাচ্ছে, অন্যদিকে দ্বিগুণ দামেও কাজের মানুষ পাচ্ছি না। সরকার যদি এখনই সাহায্যের হাত না বাড়ায়, তবে আমাদের পথে বসতে হবে।”
দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের একটি বড় অংশ আসে এই রায়পুর থেকে। এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বড় ধরণের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


