সাহারুল ইসলাম ঘোড়াঘাট দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ৬ ছয়টি সংসদীয় আসন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দামামা বেজে উঠেছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সংসদীয় প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগবিহীন মাঠে মূল লড়াই হবে দুর্নীতি, অপশাসন ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠুভাবে বাঁচার লড়াই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই লড়াইয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে তরুণ সমাজ এবং বড় প্রভাব ফেলবে ধর্ম ও ধর্মান্ধতার বিচার। দিনাজপুরের ৬টি আসনে মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে একজন নারী প্রার্থী। (চূড়ান্ত তালিকায় ৩৭ জন)
বিএনপি অনেক ক্ষেত্রে নতুন ও তরুণ মুখ নিয়ে এসেছে, যদিও জামায়াত তাদের সাংগঠনিক শক্তিতে অনড়। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিচ্ছে ‘তারেক রহমান ফ্যাক্টর’।
দিনাজপুর—১ (বীরগঞ্জ—কাহারোল); হিন্দু অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির পরিচিত মুখ মনজুরুল হক চৌধুরীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছেন জামায়াত নেতা মো. মতিউর রহমান। জোটগত জটিলতা কাটিয়ে এখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দেখা যাচ্ছে।
দিনাজপুর—২ (বিরল—বোচাগঞ্জ): এখানে চৌধুরী পরিবারের লড়াই বেশ জমে উঠেছে। মো. সাদিক রিয়াজ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সক্রিয় থাকলেও জামায়াত প্রার্থী এ কে এম আফজালুল আনাম এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জুলফিকার ‘স্ট্রাইকার’ ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
দিনাজপুর—৩ (সদর): বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে সাবেক মন্ত্রী মরহুম খুরশীদ জাহান হকের স্মৃতি এখনও অমলিন। তবে দলীয় কোন্দল ও তরুণ নেতাদের অনীহা ধানের শীষের প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের জন্য কিছুটা চিন্তার কারণ। অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মো. মাইনুল আলম এখানে মর্যাদার লড়াইয়ে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নেমেছেন।
দিনাজপুর—৪ (চিরিরবন্দর—খানসামা): বিএনপির পরীক্ষিত নেতা আকতারুজ্জামান মিঞার সঙ্গে লড়াই হবে জামায়াতের মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী আফতাব উদ্দিন মোল্লার। এখানে মাঠের বাইরের প্রভাব লড়াইকে অনিশ্চিত করেছে।
দিনাজপুর—৫ (ফুলবাড়ী—পার্বতীপুর): পুরো উত্তরের নজর এই আসনের দিকে। দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি জেড এম রেজওয়ানুল হককে বাদ দিয়ে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে তরুণ ব্যারিস্টার কামরুজ্জামানকে। রেজওয়ানুল হকের পৈত্রিক ভিটায় বিএনপির একাংশের বিদ্রোহ ব্যারিস্টারের জন্য বড় পরীক্ষা। এই আসনে জামায়াত এনসিপি’র প্রার্থী মো. আব্দুল আহাদকে ছাড় দিয়েছে। ধান বনাম ধানের শীষের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের জয় কে পাবে, তা দেখার জন্য এই অঞ্চলের মানুষ অপেক্ষা করছে।
দিনাজপুর—৬ (বিরামপুর—হাকিমপুর—নবাবগঞ্জ—ঘোড়াঘাট): এখানে সরাসরি লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে। বেগম জিয়ার বিশ্বস্ত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের প্রবীণ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের দেশে আগমন নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা কেটে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন উন্মাদনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর দিনাজপুরের অনেক আসনের ভোটের চিত্র আমূল বদলে দিতে পারে। সাধারণ মানুষের মাঝে অজানা ভয় থাকলেও ভোটের মাঠে শেষ হাসি কে হাসবে, তা নির্ধারণ করবে ৫ই আগস্টের পরবর্তী পরিবর্তিত জনমত ও তরুণ ভোটারদের রায়।
২৬-১-২৬


