“রক্তের বিনিময়ে পাওয়া অধিকার কখনো বিস্মৃত হয় না” — বক্তারা
সফিকুল ইসলাম
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্য আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আবেগে ভরপুর এই আয়োজনে অংশ নেন সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, ধর্মীয় চিন্তাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
শনিবার (২ আগস্ট ২০২৫) সকাল ১০টায় জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সাংবাদিক ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন,
“শহীদদের আত্মত্যাগ ইতিহাসের অমলিন অধ্যায়। তাদের স্মরণ মানে শুধু অতীতের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বর্তমানকে সচেতন ও ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্ববান হয়ে ওঠা।”
প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন , জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন,
“শহীদরা আমাদের জাতীয় চেতনার দীপ্ত প্রেরণা। তাদের ত্যাগকে ধারণ করেই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”
দোয়া পরিচালনা করেন জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি মুবারকুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও যায়যায়দিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক খুরশিদ আলম
নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর হেড অব নিউজ শরীফুল ইসলাম খান
এনটিভির বিশেষ প্রতিনিধি ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম ঢাকা সুপ্রিম কোর্টের সভাপতি হাসান জাবেদ
জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাভেদ রহিম বিজন
টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহীন
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোবারক হোসাইন
জেলা হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম
ইসলামী ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বুরহান উদ্দীন কাসেমী
খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা আঃ আজিজ
হাফেজ এমদাদুল্লাহ সিরাজী
ইসলামী আন্দোলনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নিয়াজুল করীম
অনুষ্ঠানে শহীদদের স্মরণে সচেতনতামূলক তথ্যচিত্র ও স্থিরচিত্র প্রদর্শনী ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। “বি-বাড়িয়ার রক্তাক্ত সেই দিন ও “পানি লাগবে পানি?” শীর্ষক প্রদর্শনী সবার মন জয় করে নেয়।
বিশেষ মুহূর্তে শহীদ মীর মুগ্ধর পিতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল উপস্থিত থেকে আবেগঘন বক্তব্য দেন। সবশেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে শহীদদের মরনোত্তর সম্মাননাও প্রদান করা হয়।
জেলার গণমাধ্যমকর্মী, লেখক ও সচেতন নাগরিকদের সরব উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক ঐতিহাসিক আবহ সৃষ্টি করে।


