আবুল বাসার মিলন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ফুলকুড়ি সিএনবিঘাট এলাকায় নিজ বসতবাড়ি থেকে প্রায় কোটি টাকার হেরোইনসহ আব্দুর রহমান (৫৫) মাসিরুন বেগম(৫০) শুকুদ্দি (৩৪) ও মাসুদ রানা (১৮) নামে চার চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ এ সময় তাদের কাছ থেকে ২ কেজি ৬৯৫ গ্রাম অবৈধ মাদক হেরোইন ও এন্ড্রোয়েড ফোন পাঁচটি,বাটন ফোন একটি,স্বর্ণের আংটি একটি, রুপাসহ অন্যান্য ধাতুর আংটি সাতটি, ডিজিটাল ওয়েট মেশিন একটি, পাসপোর্ট একটি,ডিভিআর একটি, হিট দেওয়ার বাল্ব একটি,ফোয়েল পেপাল রোল একটি,হেরোইন শুকানোর গামলা একটি ও মাদক বিক্রয়ের নগদ ২৪ হাজার ৩২০ টাকা উদ্ধার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান, তাঁর স্ত্রী মাসিরুন বেগম, দুই ছেলে শুকুদ্দি ও মাসুদ রানা তাঁরা ফুলকুড়ি সিএনবিঘাট এলাকার বাসিন্দা। রবিবার(০৫ জুলাই) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জনাব গৌতম কুমার বিশ্বাস তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার একটি আভিযানিক টহল দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত টহল ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। অভিযানের এক পর্যায়ে ০৫ জুলাই বিকেল আনুমানিক ২ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আব্দুর রহমান তার নিজ বাড়িতে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ হেরোইন মজুদ রেখেছেন।
সংবাদটি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল দুপুর ২ টায় সদর উপজেলার ফুলকুড়ি সিএনবিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের চারজনকে নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের হেফাজতে থাকা একটি কাপড়ের বাজার করার ব্যাগ তল্লাশি করে ভেতরে আলাদাভাবে রাখা ২০টি স্বচ্ছ পলিথিনের প্যাকেটে সংরক্ষিত ২ কেজি ৬৯৫ গ্রাম বাদামি রঙের হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য আড়াই কোটি টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামি ও উদ্ধার করা আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১ জুলাই থেকে জেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় অফিসার ও ফোর্সদের সমন্বয়ে থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান ওয়ারেন্ট তামিল ও নিয়মিত মামলার আসামী গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


