সাহারুল ইসলাম ঘোড়াঘাট দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার পৌরসভার কালিতলা মোড়। জরাজির্ণ ভাবে এই মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক কড়ই গাছ। ব্রিটিশ আমলে রোপণ করা এই গাছটি কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, বরং এই অঞ্চলের শত বছরের ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। কিন্তু অযত্ন, অবহেলা আর এক শ্রেণির অসাধু মানুষের লোলুপ দৃষ্টিতে আজ সংকটে এই প্রাচীন প্রাণ। বর্তমানে গাছটির শাখা-প্রশাখায় ডালপালা কমে গিয়ে অনেকটা রুগ্ন রূপ ধারণ করেছে, যা পরিবেশপ্রেমীদের মনে জাগিয়েছে ‘নীরব আর্তনাদ’
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রাচীন এই গাছটিকে কেন্দ্র করে একটি বসার চত্বর ও টিনের চালা দিয়ে গোলঘর তৈরি করা হয়েছে। তবে গাছটির দিকে তাকালেই চোখে পড়ে অব্যবস্থাপনার ছাপ। ডালপালার মাঝ দিয়ে জালের মতো জড়িয়ে আছে অসংখ্য বৈদ্যুতিক তার। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অবিবেচক সিদ্ধান্তের কারণে গাছটি যেমন স্বাভাবিকভাবে ডালপালা মেলতে পারছে না, তেমনি যেকোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী—এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে বা লোকচক্ষুর আড়ালে গাছটির বড় বড় ডালপালা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে এক সময়ের বিশাল ছায়া দেওয়া এই মহীরুহ এখন অনেকটা টেকো ও শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। ডালপালা কমে যাওয়ার কারণে রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আগের মতো শীতল ছায়াও মিলছে না। কালিতলা মোড়ের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, তাদের বাপ-দাদারাও এই গাছটিকে এভাবেই দেখে এসেছেন। ক্লান্ত পথিক থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ী—সবারই বিশ্রামের ঠিকানা এই গাছের তলা। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা ক্ষুব্ধ। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই গাছটা আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। কিন্তু তারের জঞ্জাল আর ডাল চুরির কারণে গাছটা এখন মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন এর একটা বিহিত করুক।” পরিবেশকর্মীরা বলছেন, একটি শতবর্ষী গাছ কাটার চেয়ে তাকে তিলে তিলে মেরে ফেলা বড় অপরাধ। ডালপালা কেটে ফেলার ফলে গাছের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং বৈদ্যুতিক তারের ঘর্ষণে গাছের কাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি দ্রুত বন্ধ না হলে ঘোড়াঘাট তার এক অমূল্য সম্পদ হারাবে।


