আলী আজগর রবিন স্টাফ রিপোর্টারঃ
রায়পুরে মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের সশস্ত্র হামলায় কলেজছাত্র আশরাফুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ পলাতক পাঁচজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহত আশরাফুল ইসলাম উপজেলার চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হকের একমাত্র ছেলে এবং রায়পুর রুস্তম আলী কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে নিহতের পিতা আজিজুল হক খান, স্বজনরা এবং স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।
মানববন্ধনে তার সহপাঠীরা বলেন, বন্ধুকে হারানোর শোক এখনও কাটেনি। আমরা চাই দ্রুত বিচার ও সব আসামির গ্রেপ্তার।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার মা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
মামলার বাদী আজিজুল হক খান বলেন, আমার একমাত্র ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার প্রধান ঘাতককে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। যিনি হত্যাকারীদের সন্ধান দিতে পারবেন, তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি রাতে মাদক সেবনে বাধা দেওয়া এবং ডিবি পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার সন্দেহে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যরা আশরাফুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে হাতুড়ি ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০ জানুয়ারি বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি রায়পুর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ইতোমধ্যে কয়েকজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে। তবে প্রধান আসামিসহ আরও কয়েকজন এখনও পলাতক।
রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়া বলেন, হত্যা মামলার চার আসামি কারাগারে আছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও র্যাব তৎপর রয়েছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, আশরাফুল হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত হলেই এলাকায় মাদক ও কিশোর গ্যাং তৎপরতা কমবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তা ফিরে পাবে।




