বিশেষ প্রতিনিধি: লাবলু বিশ্বাস বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আধুনিক সেচব্যবস্থা ভ্যালি ইরিগেশন সেন্টাল পিভট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। অস্ট্রিয়ার আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে এই অত্যাধুনিক সেচ প্রকল্প। এটি স্থাপন করা হয়েছে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ঈশ্বরদীস্থ মুলাডুলি ইক্ষু খামারে।
বিএডিসি সূত্র জানায়, বিশ্বের উন্নত কৃষি ব্যবস্থায় বহুল ব্যবহৃত সেন্ট্রাল পিভট ইরিগেশন প্রযুক্তি এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে স্থাপন হচ্ছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিচ থেকে নয়, পাইপের সঙ্গে যুক্ত স্প্রিংকলারের মাধ্যমে ওপর থেকে জমিতে পানি ছিটানো হবে। বড় আকারের কৃষি জমিকে কম সময়, কম শ্রমিক ও কম পানি ব্যবহার করে সেচ দেওয়ার এই আধুনিক ব্যবস্থা দেশের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ঈশ্বরদীস্থ মুলাডুলি ইক্ষু খামারে পরীক্ষামূলক ভাবে প্রকল্পটি চালু হলে বিভিন্ন খামার ও বেসরকারি উদ্যোগেও এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়বে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা। এতে একই জমিতে একাধিক ফসল ফলানো, চাষের সময় কমানো এবং পানির সাশ্রয় সম্ভব হবে। ফলে খামারের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। এই প্রজেক্টে দুইজন বিদেশি কর্মরত রয়েছেন একজন চায়নার মিষ্টার জ্যাক ও ভিয়েতনামের মিস্টার
খোয়া।মুলাডুলি ইক্ষু খামার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম
বলেন, মুলাডুলি ইক্ষু খামারে ১ হাজার ১০১ একর জমি রয়েছে। ৯৪০ একর জমিতে আখ চাষ হয়। এছাড়া নিচু জমি, রাস্তাঘাট, শ্রমিকদের বসবাসের কলোনি, ষ্টাফ কলোনি, পুকুর ও বাগান রয়েছে। মুলাডুলি ইক্ষু খামারে সাড়ে তিনশ মিটার আওতা জুড়ে আনুমানিক ১৫০ একর জমিতে পানি সাপ্লাই দিবে পিভটের প্রযুক্তি। গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ কাজের উদ্বোধন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আধুনিক কৃষিতে পানি ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেন্ট্রাল পিভট প্রযুক্তি সেচ ব্যবস্থাকে দ্রুত, স্বয়ংক্রিয় ও সাশ্রয়ী করবে। এই প্রকল্প সফল হলে দেশের বৃহৎ কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সংকটের সময়ে এই ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ কৃষি উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের কাছে সহজলভ্য হলে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফরিদ হোসেন ভূইয়া বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এই আধুনিক সেচ ব্যবস্থা আমাদের খামারে স্থাপন হচ্ছে—এটা শুধু মিলের জন্য নয়, এঅঞ্চলের কৃষির জন্যও বড় অর্জন। আমরা আশা করছি, সেন্ট্রাল পিভট প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা সময়, শ্রম এবং পানি- তিনটিই সাশ্রয় করতে পারবো। আগে যেখানে সেচ দিতে দুই দিন লাগত, সেন্ট্রাল পিভট সেটিতে কয়েক ঘণ্টায় কাজ শেষ করবে। এর ফলে আমরা একই জমিতে একাধিক মৌসুমি ফসল নিতে পারবো।




