স্টাফ রিপোর্টারঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার ০৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদে এক গভীর সংকট ও হতাশার চিত্র ফুটে উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ মিন্টু ফরায়েজীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন পরিষদের ১০ জন নির্বাচিত ইউপি সদস্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও দুঃখের আবহ বিরাজ করছে।উল্লেখ যে বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) ইউনিয়নের ১০ জন ইউপি সদস্য একযোগে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত ভাবে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেন। তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের অভ্যন্তরে জমে ওঠা অসন্তোষ ও বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এই অনাস্থা প্রস্তাবকে দেখছেন স্থানীয়রা।
অনাস্থা প্রস্তাবে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেন, চেয়ারম্যান মিন্টু ফরায়েজী ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আসছেন। সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্প, ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনা, পাকা ঘর বরাদ্দ, গৃহহীনদের তালিকা প্রণয়ন, গাছ কাটার অনুমতি, রাস্তা প্রশস্তকরণ, এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরিতেও সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
তাদের অভিযোগ, পরিষদের নিয়মনীতি ও সমবায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি ভেঙে দিয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রকল্প বণ্টন করা হয়েছে। এর ফলে ইউনিয়নের প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি হয়েও জনগণের পাশে দাঁড়াতে না পারার যন্ত্রণা সদস্যদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, বশীর হাওলাদার, আবুল হোসেনসহ আরও কয়েকজন বলেন,
“চেয়ারম্যানের একক ও স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
আমরা বারবার আলোচনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমাদের কথা শোনা হয়নি। ইউনিয়নের স্বার্থ, সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার ও পরিষদের সম্মান রক্ষার জন্য বাধ্য হয়েই আমরা অনাস্থা প্রস্তাব দিতে হয়েছে।”অন্যদিকে অভিযোগ বিষয়ে অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মিন্টু ফরায়েজী বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটি একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউছার বলেন,“ইউপি সদস্যদের পক্ষ থেকে লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব পেয়েছি। আইন অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এই অনাস্থা প্রস্তাব শুধু একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়—এটি দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও নীরব আর্তনাদের প্রতিফলন। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হবে এবং ইউনিয়নে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। জনপ্রতিনিধিদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের ভার যেন আর সাধারণ মানুষের কাঁধে না পড়ে—এই প্রত্যাশাই এখন সবার।




