এম,এ,মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভিত্তি হলো সুশাসন ও আইনানুগ কার্যক্রম। সরকারি কর্মকর্তাদের কাজ হলো জনগণের সেবা করা, সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে কাজ করা এবং রাষ্ট্রের সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা। কিন্তু যখন কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজ ক্ষমতা ও দায়িত্বের অপব্যবহার করেন, তখন সেই ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, জনগণের আস্থা নষ্ট হয় এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার শালবাড়ি ভূমি অফিস, বাহাদুরপুর ও শ্রীমন্তপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতাউর রহমান–এর বিরুদ্ধে এমনই এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ভূমি অফিস নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাদের দায়িত্ব থাকে ভূমি সংক্রান্ত সেবা জনগণের কাছে স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, মোহাম্মদ আতাউর রহমান সরকারি নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করেছেন এবং অফিসের আওতায় ঘোষ বাণিজ্য (অর্থাৎ ব্যক্তিগত লেনদেন ও আর্থিক সুবিধা আদান–প্রদানের কার্যক্রম) শুরু করেছেন।স্থানীয় সূত্র ও অফিসের কিছু কর্মচারী জানিয়েছেন, এই অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতিতে অফিসের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ভূমি সংক্রান্ত সাধারণ জনগণ সঠিক সময়ে সেবা পাচ্ছেন না, বরং তাদেরকে নানা অজুহাতে বিলম্ব, আর্থিক দাবি এবং হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।এই অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কিছু নাগরিক মোবাইলফোনে মোহাম্মদ আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি অকপটে বলেন,
“আমার অফিস আমি যেভাবে চালাবো, সেটা আমার ব্যাপার।”যেটা খুব খারাপ বিষয় তিনি ডিসির ভয় দেখায়। তার এই বক্তব্যে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন — একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একটি সরকারি অফিসকে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে ভাবতে পারেন? সরকারি সম্পত্তি ও দায়িত্ব জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়; তাই সেটিকে ‘নিজস্ব অফিস’ হিসেবে দেখার অধিকার কোনো কর্মকর্তার নেই।
এমনও প্রমাণ পাওয়া যায় অত্র এলাকার মোঃ খইবর উদ্দিন বটতলী বাজার তার একটি কাজ করাতে মোঃ আতাউর রহমান নায়েব ১৪ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন।যা নিয়ামতপুর উপজেলা ভূমি কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রেজাউল করিম দ্বারা প্রমাণিত। এত কিছু জানার পরও কেন এই অফিস থেকে তাকে শাস্তি স্বরূপ ট্রান্সফার করা হলো না এটাও এলাকাবাসী জানতে চাই।এলাকাবাসী জানিয়েছেন যে, তারা বহুদিন ধরে ভূমি অফিসে অনিয়ম, দালালচক্র ও অতিরিক্ত জনবল দ্বারা পরিচালিত প্রশাসনিক জটিলতার শিকার হচ্ছেন। একজন কর্মকর্তা যখন নিজের ইচ্ছামতো অতিরিক্ত লোক নিয়োগ করেন, তখন সেখানে জবাবদিহিতা নষ্ট হয়, স্বচ্ছতা হারায়, এবং দুর্নীতির পথ উন্মুক্ত হয়।এলাকার সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন,“আমরা সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাই, কিন্তু যদি সরকারি কর্মকর্তা নিজেই সরকারি নিয়ম মানতে না চান, তাহলে জনগণ কার কাছে যাবে?”তাদের একটাই দাবি — মোহাম্মদ আতাউর রহমানের কর্মকাণ্ডের একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হোক, যাতে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পায় এবং ভবিষ্যতে কেউ সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করার সাহস না পায়।সরকারি প্রবিধানমালা (Government Service Rules) অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছামতো কর্মচারী নিয়োগ করতে পারেন না। এই ধরনের পদক্ষেপকে প্রশাসনিক অনিয়ম এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়। একজন কর্মকর্তার অনিয়ম কেবল একটি অফিসকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং তা গোটা প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।এই ধরনের কার্যকলাপের ফলে—অফিসের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়,সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি বৃদ্ধি পায়,সরকারি অর্থের অপচয় হয়,এবং প্রশাসনে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার বা অননুমোদিত কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি স্বার্থের ক্ষতি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। এজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া।একটি রাষ্ট্র তখনই সুশাসিত থাকে যখন তার প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনানুগতা বজায় থাকে। যদি কোনো কর্মকর্তা নিজের ইচ্ছামতো সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করেন, তাহলে সেটা শুধু দপ্তরের ক্ষতি নয়, রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকেও কলঙ্কিত করে।শালবাড়ি ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণই এই মুহূর্তে একান্ত প্রয়োজন। জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার ও সঠিক সেবা প্রত্যাশা করে, আর তা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনের উচিত এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি কর্মকর্তা নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে না করেন।




