এম,এ,মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন সময় সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন দল নিজেদের আদর্শ ও চিন্তাধারা তুলে ধরে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় জামায়াত অফিসে আয়োজিত এই সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের কর্মী, সহানুভূতিশীল ব্যক্তি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।সকালের দিকে কর্মীরা ধীরে ধীরে প্রসাদপুর বাজারে অবস্থিত জামায়াত কার্যালয়ে সমবেত হতে থাকেন। চারপাশে ছিল একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, কর্মীদের মুখে দৃঢ় প্রত্যয় ও ঐক্যের আহ্বান। স্থানীয় নেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সভার আয়োজন করেন, যাতে মূলত সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদার করার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য ছিল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলার জামায়াতে ইসলামী শাখার আমির, যিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে সংগঠনের আদর্শ, নৈতিকতা, ও সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি সমাজ তখনই এগিয়ে যেতে পারে যখন তার নেতৃত্বে থাকে ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল ও সৎ মানুষ।সভায় একে একে বেশ কয়েকজন বক্তা বক্তব্য প্রদান করেন। তারা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ, মানবিক মূল্যবোধ চর্চা এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। বক্তারা জোর দেন, ইসলামিক নীতির আলোকে সমাজ গঠন করলে ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব।সভায় আরও আলোচনা হয় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষামূলক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা, দরিদ্র জনগণের সহায়তা প্রদান এবং তরুণ প্রজন্মকে সৎ পথে উদ্বুদ্ধ করার বিষয় নিয়ে। বক্তারা মনে করেন, সমাজে নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—এই তিন স্তর থেকেই সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।সভা শেষে উপস্থিত কর্মীরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা প্রতিশ্রুতি দেন যে, ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সততা, ন্যায়বিচার ও মানবসেবার নীতিকে সর্বাগ্রে রাখবেন। সবাই একমত হন যে, পরিবর্তনের জন্য শুধু বক্তব্য নয়, কর্মের মাধ্যমেই মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে হবে।সভা শেষে এক সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যাতে দেশের অগ্রগতি, জনগণের শান্তি এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা করা হয়।এই কর্মীসভাটি শুধু একটি সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম নয়; বরং এটি ছিল সামাজিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা ও সংগঠনের আত্মসমালোচনার একটি ক্ষেত্র। এতে কর্মীরা যেমন নিজেদের দায়িত্ব স্মরণ করলেন, তেমনি সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলেন।সভাটি স্থানীয়ভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এতে গ্রামের সাধারণ মানুষও অংশ নেয় এবং সমাজে সৎ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করে। এই ধরনের সভা সমাজে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।মান্দা প্রসাদপুর বাজারে আয়োজিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র এই কর্মীসভা মূলত নৈতিক, সামাজিক ও সাংগঠনিক মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়। বর্তমান সমাজে যেখানে নৈতিকতার অবক্ষয় ক্রমবর্ধমান, সেখানে এই ধরনের সভা মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে।সমাজের উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রাচুর্যে নয়, বরং নৈতিক ও মানবিক উন্নতিতেও নিহিত। এই উপলব্ধি থেকেই সভাটির মূল বার্তা ছিল— “ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।”




