এম,এ,মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার,নিয়ামতপুর, (নওগাঁ)
সুজলা সুফলা, শস্য-শ্যামল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই একটি কৃষিনির্ভর দেশ। প্রাচীনকাল থেকেই এই দেশের মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদী, খাল, বিল ও উর্বর মাটির দেশ বাংলাদেশ কৃষি উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বলা যায়, কৃষির উন্নয়নই বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি।বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ আজও কৃষির সঙ্গে জড়িত। জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ আসে কৃষি থেকে। আমাদের খাদ্যের প্রধান উৎস — ধান, গম, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল — সবই কৃষির দান। কৃষি শুধু খাদ্য সরবরাহই করে না, এটি শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্যসহ দেশের অন্যান্য খাতকেও সচল রাখে। যেমন, পাট, চা, তামাক, চিনি, সবজি ইত্যাদি পণ্য কৃষিভিত্তিক শিল্পে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই কৃষির উন্নতি মানেই শিল্পের প্রসার এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছে। একসময় আমাদের কৃষকরা বৃষ্টি ও নদীর জলের উপর নির্ভর করে চাষাবাদ করত, এখন আধুনিক সেচব্যবস্থা, উন্নত জাতের বীজ, সার, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণে। সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের জন্য কৃষিঋণ, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসেবা চালু করা হয়েছে। ফলে আজ বাংলাদেশ খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।তবুও কৃষি খাতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা ও নদীভাঙন কৃষি উৎপাদনে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। অনেক সময় কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় না, ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, শ্রমিকের অভাব দেখা দিচ্ছে, এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে উৎপাদনশীলতা সব জায়গায় সমান নয়। এসব সমস্যা সমাধান করা না গেলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন সম্ভব হবে না।কৃষির উন্নয়নে প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, কৃষকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী মূল্যে সার ও বীজ সরবরাহ, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের উন্নতি। সরকারকে আরও গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করতে হবে যাতে জলবায়ু-সহনশীল ফসল উৎপাদন সম্ভব হয়। এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে কৃষির প্রতি আগ্রহী করতে হবে — কৃষিকে “সম্মানজনক পেশা” হিসেবে গড়ে তোলা দরকার।বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে কৃষি গভীরভাবে জড়িত। কৃষি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। তাই কৃষির উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন, কৃষকের মুখে হাসি মানেই বাংলাদেশের অগ্রগতি। আমাদের সবার দায়িত্ব কৃষক ও কৃষিকে সম্মান জানানো, তাদের সহায়তা করা এবং আধুনিক কৃষি গড়ে তোলার পথে একসঙ্গে কাজ করা।




