বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয়, বহু সংস্কৃতির দেশ। এখানে প্রত্যেকটি ধর্মীয় উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতির মহামিলন ক্ষেত্র। দুর্গাপূজা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলেও, এ উৎসবকে ঘিরে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে আনন্দে অংশগ্রহণ করেন। এ ধারা বজায় রেখে নিয়ামতপুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এলাকার পূজা মণ্ডপগুলোতে ব্যাপক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এবং আগামী সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সহধর্মিণী সম্প্রতি নিয়ামতপুর উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। তাঁর এ পরিদর্শন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় জনগণের কাছে সমাদৃত হয়েছে।
পরিদর্শনকালে তিনি পূজা মণ্ডপের পুরোহিত ও আয়োজক কমিটির সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পূজা মণ্ডপে আগত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ছাড়াও তিনি দুর্গাপূজার মঙ্গল কামনা করেন। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশের মাটিতে মুসলিম-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সকল সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের গর্ব। রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে এ সম্পর্ককে অটুট রাখতে হবে।”
এসময় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানান এবং তাঁর আন্তরিক আগ্রহের প্রশংসা করেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু রাজনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং সামাজিক ঐক্যের প্রতীক। বিশেষত নির্বাচনের সময় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা জনগণের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, পূজা মণ্ডপে গিয়ে সরাসরি হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করাকে অনেকেই সাহসী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি পূজা উদ্যাপন কমিটির খোঁজখবর নেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান এবং পূজায় আগত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আরাম-আয়েশের বিষয়েও খেয়াল রাখেন। কিছু পূজা মণ্ডপে তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে কথা বলে তাদের কাজের প্রশংসা করেন।রাজনৈতিক মহলের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এ ধরনের কার্যক্রম একটি প্রার্থীর সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক। মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সহধর্মিণীর এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদেরও উদ্দীপিত করেছে। তারা মনে করছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতির এ চর্চা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
সবশেষে বলা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলায় পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনের এ কার্যক্রম শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক সম্পৃক্ততার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয় হলো আমরা সবাই একসাথে এ সমাজের সদস্য, আর উৎসব আমাদের সকলের মিলনক্ষেত্র।




