এম,এ,মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সব সময় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন সরবতা দেখা যায়, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয় ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর ও পোরশা অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন পোরশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ মোজাম্মেল হক।তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি সম্প্রতি নিয়ামতপুর উপজেলার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন। দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব। এই সময় পূজামণ্ডপে মানুষের ভিড় থাকে, ভক্তদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চারদিক মুখরিত হয়। সেই সময় পূজারীদের সঙ্গে দেখা করে, তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি একটি ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেন।
মোঃ মোজাম্মেল হক পরিদর্শনকালে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমাদের দেশের রাজনীতিতে অনেক সময় নেতারা কেবলমাত্র এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত থাকেন। তারা ক্ষমতা, মর্যাদা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থকেই প্রাধান্য দেন। কিন্তু আমি চাই অন্যরকম রাজনীতি করতে। আমি চাই জনগণের ভোটে, জনগণের ভালোবাসায় একজন জনপ্রতিনিধি হতে। আমার লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, আমার লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ।”তার বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, “আমাকে যদি বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আর এই দেশে ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি দিয়ে কাউকে চিহ্নিত করা হবে না। আমরা সবাই মানুষ, সবাই সমান। ধর্ম, জাতি বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে ছোট করে দেখা হবে না। আমি বিশ্বাস করি, মানুষ আগে মানুষ—এটাই হোক আমাদের রাজনীতির মূল দর্শন।”তার এই বক্তব্য স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কারণ, বাংলাদেশে অনেক সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এমন সময়ে একজন জনপ্রতিনিধির পক্ষ থেকে এ ধরনের বার্তা শুধু ইতিবাচক নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোজাম্মেল হক যদি সত্যিই এ ধরনের মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনকে সামনে রেখে রাজনীতি করেন, তাহলে স্থানীয় জনগণ তাকে সহজেই গ্রহণ করবে। কারণ সাধারণ মানুষ চায় শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন। তারা চায় এমন একজন জনপ্রতিনিধি, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, বরং সবসময় মানুষের পাশে থাকবেন।তার পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন ছিল নিছক একটি রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ, সম্প্রীতি এবং মিলনের বার্তা দেওয়ার একটি চেষ্টা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে একজন মুসলিম নেতা যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবে গিয়ে অংশগ্রহণ করেন, তখন তা মানুষের মনে আস্থা তৈরি করে। এই ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করে, রাজনীতি কেবল ভোটের জন্য নয়, বরং সমাজে ঐক্য সৃষ্টি করার একটি বড় মাধ্যমও হতে পারে।মোঃ মোজাম্মেল হক এর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে, তিনি রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে দেখতে চান না। বরং তিনি রাজনীতিকে দেখেন মানুষের সেবা, জাতিগত সম্প্রীতি ও মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে। এ কারণেই তিনি বলেছেন, এমপি হওয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য তার কাছে জনগণের কল্যাণ। তিনি চান ভোটে নির্বাচিত হয়ে মানুষকে নিয়ে, মানুষকে পাশে রেখে এক নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মোঃ মোজাম্মেল হকের এই কার্যক্রম এবং তার বক্তব্য নিয়ামতপুর ও পোরশার মানুষের মাঝে একটি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তিনি যদি সত্যিই তার এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে পারেন, তাহলে শুধু বিএনপি নয়, বরং সারাদেশের জন্যই তিনি হয়ে উঠতে পারেন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।




