এম,এ,মান্নান,বিশেষ প্রতিনিধি,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার, সারাদেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একযোগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।এর ধারাবাহিকতায় নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামাতে ইসলাম নেতৃবৃন্দ সহ সাধারণ সদস্য ভোটারগণ সমাবেত হয়ে মিছিল করেন। এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের প্রতি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা এবং দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে গণআন্দোলনকে আরো বেগবান করা।এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ পাঁচটি মৌলিক দাবি উপস্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. জুলাই মাসে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।২. আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন পি.আর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে আয়োজন করা।৩. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির নিবন্ধন বাতিল করা।৪. দেশের সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ ও সুবিধা নিশ্চিত করে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা।৫. দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।সারাদেশের ন্যায় নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলাতেও একই দিনে জামায়াত ইসলামী বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপজেলার মেইন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার বারবার হরণ করা হচ্ছে। জুলাই গণহত্যার বিচারহীনতা প্রমাণ করে সরকার গণবিরোধী নীতি অনুসরণ করছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য অবশ্যই পি.আর পদ্ধতি চালু করতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান পরিবেশ তৈরি করতে হবে।কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র শিবির নিয়ামতপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের, উপজেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, নিয়ামতপুর উপজেলা জামায়াতের সম্মানিত আমির মোহাম্মদ আফজাল হোসেন এবং নওগাঁ জেলা জামায়াতের নেতা মোহাম্মদ নওশাদ আলী। তারা সবাই একসাথে ঘোষণা দেন যে, জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।এদিনের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়। তবে বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল যে, দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। জামায়াত ইসলামী মনে করে, এই দাবিগুলো পূরণ হলে দেশ একটি সুষ্ঠু রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে এবং জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত অধিকার ফিরে পাবে।




