আবুল বাসার মিলন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার বর্তমান ওসি বিনয়ী ও আন্তরিক-তিনি থানাকে করেছেন দালালমুক্ত, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)’র কক্ষে প্রবেশ করতে সাধারণত অনুমতির প্রয়োজন হয় সর্বসাধারণের। সাধারণ মানুষ সরাসরি ওসির রুমে ঢুকে তার সঙ্গে কথা বলবেন, সচরাচর এটা খুব একটা দেখা যায় না। ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায়।সরাসরি শুনছেন অভিযোগ। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দিচ্ছেন আইনি সহায়তা। বলা হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিউর রহমান এর কথা।
সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ কমাতে ওসি মোঃ মতিউর রহমান এর ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জনসাধারণের জন্য সেবার মান বৃদ্ধি করে ও সদাচরণ করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। প্রথাগতভাবে থানায় ওসির কক্ষে ঢুকতে অনুমতির প্রয়োজন হয় সাধারণ মানুষের। গ্রামের মানুষ সরাসরি পুলিশ কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলছেন, এমনটি সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু ব্যতিক্রম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায়৷ অফিসে ওসি যতক্ষন থাকেন সবসময়ই ঢুকতে পারেন সেবাগ্রহীতারা৷
৫ আগষ্টের পটপরিবর্তনের পর সদর মডেল থানায় কোন ওসি ২-৩ মাসের বেশি টিকতে পারেননি, তিনি ভেঙ্গে পড়া বাহিনীকে তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ফিরিয়ে আনেন। জানা যায়, ওসি মতিউর রহমান ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫ সালে যোগদান করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায়। তারপর থেকে এই ৭ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নিতে থাকেন ভিন্নধর্মী সেবামূলক বিভিন্ন উদ্যোগ। এর মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন সময় চুরি হওয়া ৩০ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার, চুরি হওয়া স্বর্ণ অলংকার উদ্ধার, মাদক উদ্ধার, বাল্য বিবাহ বন্ধে সচেতনাবৃদ্ধি, চুরি হওয়া গরু উদ্ধার, মোবাইল ফোন উদ্ধার, অনলাইনে জুয়া বন্ধ, সাইবার ক্রাইমে বিপদ গামী কিশোর/কিশোরীদের সু-পথে ফেরার উপদেশ, এলাকায় সিসি ক্যামেরা কার্যক্রম ও মনিটরিং জোরদারসহ এলাকাবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের তড়িৎ সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি।
বর্তমান ওসি বিনয়ী ও আন্তরিক বলে জানান আইনি সেবা নিতে সদর মডেল থানায় আসা মাহবুবা নামে এক নারী বলেন, থানায় এসে ওসি’র রুমে ঢুকে তার সাথে কথা বলি, উনাকে স্যার ডাকলে উনি বিনয়ের সাথে বলেন স্যার নয় ভাই ডাকুন। বিষয়টি আমার অনেক ভালো লেগেছে।
সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আতিক বলেন, একটা বিষয় অনেক ভালো লাগছে ওসি নিজেই ভাই বলে তার কক্ষে ভেতরে ডেকে নিয়ে কথা বললেন। জিডি করতে সহায়তা করলেন। এমন অফিসারই তো চাই। আমার মতো মানুষ ওসির সঙ্গে খোলামেলাভাবে কথা বলতে পেরেছি এতেই আমি খুশি।
পৌর এলাকার জোরবাগানের বাতেন বলেন, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়েই সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উপস্থাপন করেছেন সদর মডেল থানার ওসি মতিউর রহমান। তিনি নাগরিকদের সেবায় সরাসরি শুনছেন অভিযোগ। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দিচ্ছেন আইনি সহায়তাও। তার কাছে তাৎক্ষণিক সেবা পেয়ে মুগ্ধ সর্বশ্রেণির মানুষ। ওসির বিরামহীন সেবায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জুড়ে।
এক সেবা প্রার্থী বলেন, একসময় থানায় দালালদের দৌরাত্ম ছিল চোখে পড়ার মতো। ওসি মতিউর রহমান যোগদানের পর থানা রয়েছে দালালমুক্ত। এমন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যেই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। এছাড়া অসহায় নারীদের নানাবিধ অভিযোগ ও আইনি সহায়তা প্রদানে ওসির কর্মকাণ্ডে অনেক খুশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেবাগ্রহীতারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, আমার রুমে প্রবেশ করতে কোনো অনুমতি বা আমাকে স্যার বলে সম্বোধন করার প্রয়োজন নেই। পুলিশ জনগণের বন্ধু। আমরা সেবা প্রার্থীদের সঙ্গে বন্ধুর মত আচারন করে সুন্দরভাবে সেবা দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছি। পুলিশ হবে জনবান্ধব। সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের দূরত্ব ভয়ভীতি দূর করে প্রকৃতপক্ষে পুলিশিং সেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছি।




