সফিকুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
বৃষ্টিপাত হলেই পানি জমে থাকে মাঠজুড়ে। ফলে পাঠদানসহ সহশিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের ৬২ নম্বর পূর্বহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
বিদ্যালয় সংলগ্ন বাজার ও পাশের উঁচু রাস্তা থেকে পানি গড়িয়ে এসে জমে মাঠে। ফলে বছরের অধিকাংশ সময় মাঠটি থাকে হাঁটুসমান পানির নিচে। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে সকালের সমাবেশ, খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার বলে, “মাঠে পানি থাকার কারণে আমরা সমাবেশ করতে পারি না। খেলাধুলাও হয় না। এমনকি বৃষ্টির দিনে জুতা হাতে নিয়ে ক্লাসে যেতে হয়।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরে আলম সিদ্দীকি জানান, “বিদ্যালয়ের চারপাশের রাস্তাঘাট ও বাজার মাঠের চেয়ে উঁচু। ফলে দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের পানি সহজেই মাঠে জমে থাকে। এটি প্রতিদিনের শিক্ষাকার্যক্রমে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৫৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, “বিদ্যালয় মাঠটি শুধু শিক্ষার্থীদেরই নয়, এলাকাবাসীর একমাত্র খেলার জায়গা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এটি এখন কার্যত অকেজো। দ্রুত ড্রেনেজ নির্মাণ ও মাঠ ভরাটের প্রয়োজন।”
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, “স্কুল মাঠ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। খুব শিগগির বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে।”
এলাকাবাসীর মতে, একটি বিদ্যালয়ের মাঠ শুধু খেলাধুলার স্থান নয়—এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন বোনা জায়গা। সেখানে যদি বছরের পর বছর পানি জমে থাকে, তবে তা ভবিষ্যতের পথ রুদ্ধ করে দেয়।
জনদাবি:
জলাবদ্ধতা সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ। কারণ, “শিক্ষার বীজ বপনের জমি যদি ভিজে থাকে, তবে ফসল কবে হবে?”




