মুরাদ খান মানিকগঞ্জ থেকে
মানিকগঞ্জ সিংগার উপজেলা টাকা দিলেই চাহিদা মত সনদ বানিয়ে দিচ্ছেন দোকাদার।
হাসপাতাল -এর প্যাড বানিয়ে রক্তের গ্রুপ টেস্টের একটি রেজাল্ট পৌঁছে দি ঢাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অফিসে। জাল সেই সনদে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মী ও একজন ডাক্তারের সীল এবং স্বাক্ষরও নকল করা হয়েছে।
জানা গেছে, জাতীয় পরিচয় পত্র বানাতে রক্তের গ্রুপ বাধ্যতামুলক। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু দোকানদারা টাকার বিনিময়ে রক্তের গ্রুপপরীক্ষা না করেই টেস্ট রিপোর্ট বানিয়ে দিচ্ছে। কারও আবার আইডি কার্ড পাসপোর্ট বানানোর কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। সে সাথে টিকা না দিয়েও টাকার বিনিময়ে দিচ্ছে করোনার সনদ।
সিংগাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের নিলাম্বপট্টি গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম বিদেশে পাড়ি দিবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় অবশেষে দাড়স্থ হন সিংগাইর উপজেলা সামনে ফাতেমা স্টুডিওতে। সেখানে জানতে পারেন কোন কাগজপত্র লাগবে না সব আমার ব্যবস্থা করে দিবো টাকা লাগবে। তাই স্টুডিওর মালিক রতনের কাছে যান। জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বানিয়ে দিতে দরকসাকষির এক পর্যয়ে ২৪ হাজার টাকা চুক্তি হয়। কাজ শুরু করেন। ইউপি সদস্য (৬ নং ওয়ার্ড) দীন ইসলামের স্বাক্ষর আনতে গেলে জাল সনদ ভেবে আটকে দেয়। রক্তের গ্রুপ টেস্ট রিপোর্ট পৌছে যায় হাসাপাতালে।
একই গ্রামের ফজল মিয়া জানান, আমার ছেলে বিদেশে যাওয়ার সময় ৮শ টাকার বিনিময় রতন করোনা সনদ বানিয়ে দিয়েছে।
শুধু ইব্রাহিম নন, এমনই ভাবে অসংখ্য লোকের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। এভাবে প্রতারনা করে আঙ্গুল ফুলে গলাগাছে পরিনত হয়েছেন।
দি ঢাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক জানান, এটা আমাদের প্যাড নকল করে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। আমাদের এখানে এই নামে কোন রক্ত পরীক্ষা করা হয়নাই। কে বা কারা আমাদের প্যাড স্কেন করে রিপোর্ট বানিয়ে দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
ভুক্তভোগি ইব্রহিম বলেন, রতনের সাথে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র জন্য ২৪ হাজার চুক্তি হয়। আমি শুধু একটা জন্ম নিবন্ধন দিয়েছিলাম। বাকী কাগজপত্র সে বানিয়ে দিবে। আমি কোন রক্ত দেয়নি, কোথা থেকে কি ভাবে রক্ত গ্রুপ টেস্ট রিপোর্ট করেছে জানিনা। আমার রক্তের গ্রুপ কি সেটাও আমি জানিনা।
এসব বিষয় নিয়ে কথা হলে ফাতেমা স্টুডিও মালিক রতন বলেন, আমি এধরনের কোন কাজ করি না। আমার দোকানে শুধু পাসপোর্ট ও আইডি কার্ডের আবেদন করা হয়।
সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাসনুবা মারিয়া বলেন, এবিষয় কোন অভিযোগ পায়নি, তবে প্রমাণ পাওয়া গেলে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ আইনগত সহায়তা চাইলে তাকেও সহযোগিতা করা হবে।




