জুয়েল আহমেদ ঃ কোটা সংস্কারের একদফা দাবিসহ বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের উপর হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে তৃতীয় দিনের মত রেলপথ অবরোধ করেছেন রাজশাহীর অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) রেলস্টেশনের সামনের রেলপথ অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে ৫টি ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।সরেজমিনে দেখা যায়, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিকেল ৪টা থেকে রাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন হাজারো শিক্ষার্থী। সেখানে উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে রেলপথ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন তারা। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেখান থেকে মিছিলসহ রেলস্টেশনে গিয়ে ৫টার দিকে অবরোধ শুরু করেন তারা। বিকেল ৬টার দিকে তাদপর সঙ্গে যোগ দেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এবং রাজশাহী কলেজের কিছু শিক্ষার্থী।ট্রেনের সিডিউল বির্যয়ের বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) আহমেদ হোসেন মাসুম বলেন, আজ কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করার কারণে গোবরা অভিমুখী টুঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস, ঢালারচর অভিমুখী ঢালারচর এক্সপ্রেস এবং ঈশ্বরদী গামী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনসহ মোট ৪টি ট্রেন রাজশাহী স্টেশনে আটকে ছিল। এছাড়া, হরিয়ানে একটা ট্রেন আটকে ছিল। রাত ৯টার পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এসময় আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের একজন অর্থনীতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোটা আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রেললাইন অবরোধ করা হয়েছে।দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে আদিবাসী, প্রতিবন্ধী এবং পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ রাখতে হবে। এবং তা দ্রুত সংসদের মাধ্যমে আইন করে বাস্তবায়ন করতে হবে।আন্দোলনকারীদের দাবি হলো- সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে নূন্যতম পর্যায়ে সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ করে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।অবরোধ চলাকালীন ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘জোহা স্যারের স্মরণে, ভয় করিনা মরণে’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘দেশটা নয় পাকিস্তান, কোটার হোক অবসান’, ‘কোটা বৈষম্য নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘আপোষ না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘১৮ এর হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠায় নাই’, ‘লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’সহ বিভিন্ন স্লোগানে প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। বিকেল সোয়া পাঁচটায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অবরোধ করে রেকেছেন শিক্ষার্থীরা।উল্লেখ্য, সারাদেশের মত কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ৬ জুন থেকে আন্দোলন করে আসছেন রাবি শিক্ষার্থীরা। এর আগে, ৮ ও ১১জুলাই রেলপথ অবরোধ করেছিলেন রাবি শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, মানববন্ধন, সমাবেশ ও মহাসড়ক অবরোধের মত কর্মসূচি পালন করেছে তারা।




