জুয়েল আহমেদ : রাজশাহী জেলার পুঠিয়ায় কলাগাছের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা? এক নন এমপিও কলেজের ইংরেজি প্রভাষকের ২৪০ টি ফলন্ত কলা গাছ ৭৫০ টি নতুন বুক কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ৩১মে উপজেলার ধোকড়াকুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে । ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে যে মৃত- আমির আলীর ছেলে মোঃ হাবিবুর রহমান (হাবিব) প্রভাষক (ইংরেজি) মোমিনপুর কলেজ, নলডাঙ্গা নাটোর এর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হক দখলকৃত সম্পত্তি যার পরিমাণ ২৫ শতাংশ যা ওই গ্রামের মৃত-খবির উদ্দিনের স্ত্রী হনুফা বেগম এর কাছে ১১/৮/২০২০ ইং তারিখে কট বন্দক রাখেন এবং ওই জমি বাৎসরিক ১৪০০০ (চৌদ্দ হাজার) টাকায় তার নিকট হতে লীজ হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তিনি সেখানে রঙিন সাগর কলার বাগান করেন। তিন বছরে প্রতিবছর ১৪ হাজার টাকা করে মোট ৪২ হাজার টাকা লিজ দাতাকে দেন। চলতি বছরের ১১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে লিজের মেয়াদ পূর্ণ হবে। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একই গ্রামের সাক্ষী মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (নাজো) এর সঙ্গে বিবাদীর বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা দিতে চায় এবং বাকি (অবশিষ্ট) চার হাজার টাকা পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। বিবাদীরা চুক্তিপত্রের মেয়াদ ভঙ্গ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা গ্রহণ করেন না। মেয়াদ পুর্তির আগেই গত ৩১ মে প্রভাষক মোঃ হাবিবুর রহমান(হাবিব)এর ২৫ শতাংশ জমির ২৪০ টি ৭৫০ টি বুক বিবাদী খোকন পিতা-মৃত খবির উদ্দিন, মাহমুদ পিতা হাসেন আলী, কোরবান পিতা -আব্দুস সবুর ইমন, পিতা মোঃ হাবিবুর রহমান সর্বসাং- ধোকড়াকুল এরা স্বদল বলে মিলে নিষ্ঠুর ও অমানবিকভাবে কেটে দিয়েছে এবং বাগানের সমস্ত কলা নিয়ে চলে গেছে। বাগান মালিক গত ০১/০৬/২০২৪ ইং তারিখে উক্ত বিষয়ে নিকটস্থ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ৬/৬/২০২৪ ইং তারিখে থানার এসআই মোঃ মোশাররফ হোসেন ঘটনাটি তদন্তে আসেন এবং সুষ্ঠুভাবে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন পরের দিন ০৭/০৬/২০২৪ ইং শুক্রবার উভয়পক্ষকে তিনি থানায় উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। উভয় পক্ষ থানায় উপস্থিত হন। এসআই মোশারর হোসেন উভয় পক্ষের নিকট হতে জবানবন্দী শোনার পর ২ নং বিবাদী খোকনকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং ফসল কাটার অপরাধে অভিযুক্ত করেন এবং তাকে বলেন যে অবশ্যই তাকে এই অপরাধের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অভিযুক্ত খোকন দোষ স্বীকার করেন কিন্তু সে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি না হওয়ায় উক্ত সমস্যাটি অমীমাংসিত থেকে যায়। এমনকি থানায় এসে সে এমন কথাও বলে যে সে এখন থেকে আর ফসল কাটবে না মানুষ মারবে ও কাটবে বাগান মালিক এ ব্যাপারে আইনি সহযোগিতা ও কর্তনকৃত বাগানের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। এরকম নিষ্ঠুর ও অমানবিক কাজ করার পর খোকন বাদীপক্ষকে মারধর করার হুমকি দেয় এবং থানায় উপস্থিত হয়েও বৈঠকে সে বিভিন্ন অসংযত কথাবার্তা বলে। বাগানের মালিকপ্রশাসনকে জানালে এসআই মোশাররফ হোসেন তাকে কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দেন। ফসল কেটে দেয়ার মত অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন যাতে করে আর কেউ এমন ঘৃণ্য ও অমানবিক কাজ করতে সাহস না পায়।




