স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ায় কোটি টাকা ছুঁলেও খেতে পারলো না,এযেন চোরের উপর বাটপারী তাই ধরে রাখতে পারলেন না এক রিক্সা চালক। সেই কোটি টাকা চলে গেল গাবতলীর টাউট বাটপারসহ বিভিন্ন মুখোশধারীদের পেটে ও পকেটে। আর নিঃস্ব রিক্সা চালককে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে। ঘটনাটি গাবতলীর নেপালতলীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। উক্ত কোটি টাকা পাওয়া রিক্সা চালককে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকা লোপাটের হোতা মুখোশধারীরা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বহাল রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে উল্টো ওই রিক্সা চালককে দুইদিন ধরে থানায় আটক রাখা ও পুলিশের মারপিটের শিকার হতে হয়েছে বলে ভুক্তভোগী রিক্সা চালক জানিয়েছে। অথচ যেসব টাউট বাটপার কোটি টাকা লোপাট করেছেন তাদের কাউকে আটক করা হয়নি অজানা কারণে। লক্ষ লক্ষ টাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেম্বারের মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছে। ভুক্তভোগী রিক্সা চালক গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নের জাতহলিদা গ্রামের বাদলের ছেলে মিহির আলী (২৫)। মিহির জানায়,দীর্ঘদিন যাবত তিনি বগুড়া শহরে খান্দার এলাকায় থেকে অটো রিক্সা চালিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় আনুঃ ৬/৭ মাস আগে শহরের খান্দার পাসপোর্ট অফিস এলাকায় পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে তিনি বস্তা ভর্তি টাকা পান। ওই টাকা থেকে অপর বন্ধু ঘটনাটি জেনে যাওয়ায় তাকেও দিতে হয় ভাগ। এরপর মিহির আলী তার গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নে জাতহলিদায় দাদির বাড়ির ঝুপড়ি ঘরের মাটির নিচে ২টি হাঁড়িতে করে ৫৪ লক্ষ টাকা পুঁতে রাখে। এরপর সে আর রিক্সা না চালিয়ে স্থানীয় টাউট লাভলু মিয়ার ছেলে রনি মিয়া,মিজদুর রহমানের ছেলে রেজুয়ান,কিটু মন্ডলের ছেলে আপেল মাহমুদ উক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করে,কি ব্যাপার এতো টাকা পাস কই,তুই তো আর রিক্সাও চালাস না। এসময় সে তাদের জানায়,আমার কাছে বস্তা ভর্তি টাকা আছে বলে নিজের অজান্তে বলে দেয়। পরে ওই টাউটরা মিহির আলীকে রাতের অন্ধকারে সারিয়াকান্দির চরে নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ৩/৪ জন সহযোগী তাকে হত্যার ভয়-ভীতি দেখায় এবং টাকা কোথায় রেখেছিস বলে জানতে চায়। টাকা না পেলে তোকে হত্যা করা হবে বলেও জানায়। এ অবস্থায় সে জীবন বাঁচানোর তাগিদে উল্লেখিত স্থানের কথা বলে রনির পিতা লাভলুসহ এসব টাউট বাটপাররা তার ঘরে রাখা ৫৪ (চুয়ান্ন) লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এতে টাকার শোকে মিহির আলী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার জুয়েল এর কাছে টাকা ফেরত চেয়ে বিচার-সালিশের চেষ্টা চালায়। মিহির আরো জানায়,ধুরন্ধর মেম্বার জুয়েল অভিযুক্তদের কাছে থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিরব ভূমিকা পালন করেন। যার ফলে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে মেম্বার জুয়েল মিয়া গাবতলী থানা প্রশাসনের স্মরণাপন্ন হন। আর এই সুযোগে অজানা ঘটনা ঘটতে থাকে মিহির আলীর সঙ্গে। এরপর গাবতলী থানার এসআই সামিউল তার ওপর দুই দিন ধরে নির্যাতন চালায় বলে জানিয়েছেন মিহির। এবিষয়ে জুয়েল মেম্বারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে প্রথমে তিনি কিছুই জানেন না বলে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে বিষয়টি তিনি জানে এবং তার মাধ্যমেই মিহির আলীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে যারা তার টাকা নিয়েছেন তাদেরকে আটক না করে কুড়িয়ে পাওয়া টাকার মালিক রিক্সা চালককে কোন অভিযোগের ভিত্তিতে এবং কোন অভিযোগ না থাকলেও কেন দুইদিন ধরে থানায় আটকে রাখা হয়েছিল জানতে চাওয়া হয়। এসময় গাবতলী থানার এসআই সামিউলকে জিজ্ঞাসা করলে মোবাইলে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং বিষয়টি ওসি সাহেব জানে,প্রয়োজনে আপনি থানায় এসে ওসি সাহেবের কাছ থেকে জানতে পারেন বলে জানায়। এবিষয়ে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানায় যে,টাকা পাওয়ার ঘটনা সত্য,তবে আমরা মিহির আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসে ছিলাম এবং খান্দারের ওই ঘটনা স্থলে আমিসহ গাবতলী সার্কেল মহোদয় গিয়ে ছিলাম এসপি স্যারের অনুমতি ক্রমে। কিন্তু ওই টাকার মালিকদের কোন অভিযোগ না থাকায় বিষয়টি ওই পর্যন্তই শেষ করা হয়। মারপিট এবং দুই দিন আটক রাখার ঘটনা সত্য নয় বলে জানান তিনি।




