স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়া শেরপুর উপজেলার আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছে ভেজাল ডি ও আরবি এর কারখানা। কর্তৃপক্ষের নজরদারি কম থাকার কারণে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই ভেজাল এবং নকল ডি ও আরবি ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে খামারীরা আর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয়ের হাত থেকে। এলাকা সূত্রে জানা যায়,রনবিরর বালা (ঘাটপার),শেরুয়া বটতলা বাজার থেকে ব্র্যাক-বটতলা পর্যন্ত প্রায় বেশ কয়েকটি গোডাউন,তালতলা ফরেষ্ট গেট এর সামনে এবং শেরুয়া বটতলা রোডের কয়েকটি গোডাউন,মির্জাপুর থেকে খানপুর রোডের একাধিক গোডাউন,মির্জাপুর হতে রানীরহাট এলাকায় এবং উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন গোডাউন,সাউদিয়া পার্ক রোডের কয়েকটি গোডাউনে একই চিত্র দেখা যায়। প্রত্যন্ত এলাকায় গোডাউন ভাড়া নিয়ে নির্বিঘ্নে এই অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে তারা। রনবির বালা এবং ফরেস্ট গেটের সামনের আবাসিক এলাকার দুটি গোডাউনে রাতের বেলায় চলছে এমন কর্মযজ্ঞ অপরাধ। পরিবেশ দূষনের অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলাকে ঘিরে মুলত এই ভেজাল ব্যবসা গড়ে উঠলেও বর্তমানে ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের উপজেলাতে। এই ভেজাল ডি ও আরব,(তৈল বিহীন চালের কুঁড়া) ও ভেজাল পশু খাদ্য তৈরি কারক মহল গড়ে তুলেছে সিন্ডিকেট আর এই সিন্ডকেটের মাধ্যমে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। অসাধু ব্যবসায়ীরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজস করেই নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যায়,এমন অভিযোগও উঠে এসেছে খামারিদের পক্ষ থেকে। মূলত এটি পশু ও মৎস্য খাদ্য উপাদান হিসাবে সর্বোত্তম এবং এটি এ প্লাস ক্যাটেগরীর একটি উপাদান যা গবাদি পশু,হাঁস-মুরগি এবং মাছের খাদ্যের খাদ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বেশি লাভের জন্য এতে মেশানো হচ্ছে সিরামিকের গুঁড়া,ট্যানারির বর্জ্যের শুকনো গুঁড়া,অটো রাইস মিলের শুকনা বর্জ্য,এক বিশেষ ধরনের মাটির গুঁড়া। এসব নকল উপকরণ দেশের বিভিন্ন জায়গায়,বিশেষ করে টঙ্গী ও সাভার থেকে সংগ্রহ করে থাকে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয় এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা নামিদামী ব্রান্ডের ব্যবসায়ী যেমন-মজুমদার প্রোডাক্টস লিঃ,ওয়েস্টার্ন এগ্রো লিঃ, একাত্তর ডি ও আরবি,তামিম এগ্রো,প্রধান ডি ও আরবি,সেভেন স্টার ব্রান্ডের বস্তায় এই ভেজাল ডি ও আরবি বস্তাবন্দি করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। এতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডি ও আরবি উৎপন্নকারী বলেন,ভেজাল এবং নকল ডি ও আরবি ব্যবসায়ীদের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয় এতে করে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব আয়ে হাত থেকে। তিনি আরো বলেন,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নেতাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এবিষয়ে শেরপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত প্রাণি সম্পদ অফিসার ডাঃ রেহানা খাতুন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, পশু খাদ্যে ভেজাল দেওয়া কঠিন অপরাধ। যথাযথ তথ্য পেলে যথাযথ আইনগত বিধি-ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।




