
এম এ মান্নান স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
বর্তমান বিশ্বে নানা ধরনের সংক্রামক রোগ মানুষের জীবনে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা অনেক ক্ষেত্রে মহামারীর রূপ ধারণ করছে। একসময় মনে করা হয়েছিল, টিকাদানের মাধ্যমে এই রোগ প্রায় নির্মূল হয়ে গেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সচেতনতার অভাব ও টিকা গ্রহণে অনীহার কারণে আবারও হাম নতুন করে বিস্তার লাভ করছে।
হাম মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সহজেই একজন থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং সুস্থ মানুষ তা গ্রহণ করলে দ্রুত সংক্রমিত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি, যদিও প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারে।
এই রোগের লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। অনেক সময় এটি গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে, যেমন নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কের সংক্রমণ, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে।
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। সরকার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে, যাতে শিশুদের এই মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। কিন্তু অনেক অভিভাবক এখনো ভুল ধারণার কারণে তাদের সন্তানদের টিকা দিতে অনীহা প্রকাশ করেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা। গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পরিবার—সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দিতে হবে এবং মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
হাম কোনো সাধারণ রোগ নয়; এটি একটি নীরব মহামারী, যা অবহেলা করলে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তাই আমাদের সকলের উচিত সচেতন হওয়া, সময়মতো টিকা গ্রহণ করা এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা। তাহলেই আমরা এই রোগের ভয়াল থাবা থেকে নিজেদের এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পারব।