সফিকুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
মেঘনা নদীর ওপর তৃতীয় সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প রুট হিসেবে কাজ করবে এই সেতু, যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরসহ আশপাশের অঞ্চলকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ভুলতা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর হয়ে নবীনগর পর্যন্ত নির্মিতব্য এই সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩.১৩ কিলোমিটার। সেতুর উভয় পাশে আরও ৪.৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক তৈরি করা হবে। নৌযান চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর উচ্চতা (ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স) নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৩০ মিটার।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতুটি পিপিপি (সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) ও জি-টু-জি ভিত্তিতে নির্মিত হবে। অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানের কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানি। ইতোমধ্যে কনসোর্টিয়াম গঠন করে বিনিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা।
২০২০ সালের মার্চে সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়। একই বছরের আগস্টে মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে পিপিপি ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের মার্চে বিনিয়োগকারীদের কাছে আরএফপি (রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল) পাঠানো হয়, যার শেষ সময় ছিল ১০ মে ২০২৫।
সেতুটি হবে Extradosed concrete box girder bridge, যার মূল স্প্যান ২০০ মিটার। সেতু ও সড়ক নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
সেতুটির মাধ্যমে রাজধানীর সঙ্গে আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-আখাউড়া হয়ে আগরতলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২২ কিলোমিটার এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ২৭ কিলোমিটার দূরত্ব কমে আসবে।
এছাড়া, সওজ (সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর) এর অধীনে সরকারি অর্থায়নে ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে। কড়াইকান্দি থেকে নবীনগর পর্যন্ত সড়কটির উন্নয়ন হলে বাঞ্ছারামপুর-মুরাদনগর-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক হয়ে তৈরি হবে একটি বিকল্প মহাসড়ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয়, পুরো দেশের পূর্বাঞ্চলে শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
সরকার আশা করছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে।