
এম,এ,মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং স্থানীয়ভাবে তরুণ ও উদীয়মান নেতা হিসেবে পরিচিত মাহমুদুস সালেহীন সম্প্রতি নওগাঁ-১ (পোরশা-সাপাহার-নিয়ামতপুর) আসনের নিয়ামতপুর উপজেলার বিভিন্ন দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেন। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্দেশ্যে তার এই পরিদর্শন এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাদের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ডা. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বাবু, মোহাম্মদ মজিবুর রহমান, মোহাম্মদ অহির উদ্দিন, প্রফেসর গোলাম মোস্তফা,মোঃ শাহ আলম (আলম) এবং আরও অনেকে। তারা সকলে মিলিতভাবে মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয় পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।মন্দির পরিদর্শনের সময় মাহমুদুস সালেহীন ধর্মীয় সম্প্রীতি, সামাজিক সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে—এটাই আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। বিএনপি সর্বদা এই ঐতিহ্য রক্ষা ও টিকিয়ে রাখার পক্ষে কাজ করে যাবে।”
এছাড়াও তিনি বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রদত্ত ৩১ দফা কর্মসূচি উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই ৩১ দফার মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।
মাহমুদুস সালেহীন আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও জনগণের দল। তাই জনগণের স্বার্থরক্ষার সংগ্রামে তিনি সর্বদা নিবেদিত থাকবেন। নিয়ামতপুর ও পোরশা উপজেলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলে যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তবে এ অঞ্চলকে আমরা আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করে তুলতে পারব।”
তার সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ পূজারীরাও একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এই ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন। এলাকাবাসীর মতে, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং সব ধর্মের মানুষের প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন করলে সমাজ আরও শান্তিপূর্ণ হবে।মাহমুদুস সালেহীনের এই পরিদর্শন শুধু রাজনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা হয়ে উঠেছে সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার একটি প্রতীকী বহিঃপ্রকাশ। তার এই কার্যক্রম প্রমাণ করে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার নয়; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ন্যায় ও সমতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়াই প্রকৃত রাজনীতির লক্ষ্য।