‘বাবরের ২১ কোটি টাকার ঘুষের মামলার অভিযোগপত্রে তারেক আসামি’। এতিমখানার টাকা আত্মসাতের সঙ্গেও জড়ানো হয় প্রথম আলোর সংবাদে। এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন ছাপে পত্রিকাটি। শিরোনাম ছিল, ‘এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ : তারেকের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে’।
২০১৪ সালের ১২ জুন সোহরাব হাসানের নামে একটি কলাম ছাপে প্রথম আলো। ওই কলামের শিরোনাম ছিল, ‘তারেক বিএনপির ভরসা, না বোঝা?’ মূলত তারেক রহমানকে ব্যর্থ প্রমাণ করতেই কলামটিতে তার সম্পর্কে মনগড়া সব বিশ্লেষণ করা হয়। তারেক রহমানকে ভিলেন বানানোর লক্ষ্যে লেখা এই কলাম লেখকের আরেকটি কলামের শিরোনাম ছিল, ‘আবার তারেক যুগ! আবার হারিছ প্রশাসন!’
২০১২ সালের ১৯ মার্চ পত্রিকাটি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেককে জড়িয়ে আরো একটি প্রতিবেদন ছাপে। শিরোনাম, ‘বিচার শুরু, বাবর তারেক মুজাহিদসহ আসামি ৫২’। পত্রিকাটি গ্রেনেড হামলার পেছনে তারেকের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণে তৎপর ছিল। তাই একের পর এক প্রতিবেদন ছেপেছিল। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি ওই মামলায় তারেকসহ সব আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
জঙ্গিবাদের সঙ্গে তারেক রহমানের নাম জড়িয়ে অনেক সংবাদ প্রকাশ করে পত্রিকাটি। উইকিলিকসের বরাতে নিজেদের মতো করে মনগড়া এ রকম একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘বাংলা ভাইয়ের সহযোগীর মুক্তির ব্যবস্থা করেন তারেক রহমান’।
পত্রিকাটি তারেক রহমানকে খাটো করতে হেন বিষয় নেই, যা লেখেনি। একবার টেলিফোনে নাগরিক মন্তব্য নাম দিয়ে একটি বিশেষ আয়োজন করে। এতে সাধারণ পাঠককে ‘তারেক রহমানের রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা : আপনার মন্তব্য কী?’—এ রকম প্রশ্ন করে রাজনীতি থেকে তার সরে যাওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে জনমত তৈরির চেষ্টা করা হয়। ওই আয়োজনে শিরোনাম করা হয়, ‘রাজনীতি থেকে তারেক রহমানের অবসরের ঘোষণাকে স্বাগত জানাই’। এতে যেসব পাঠক তারেকের সরে যাওয়ার পক্ষে বলেছেন, তাদের মন্তব্যই জুড়ে দেওয়া হয়।
প্রথম আলো শুধু যে তারেক রহমানকে নিয়ে লিখেছে তা-ই নয়; প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়েও পত্রিকাটিতে অনেক প্রতিবেদন ও কলাম ছাপানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘খোলা চোখে’ শিরোনামে পত্রিকাটিতে কলাম লেখেন বিশেষ প্রতিনিধি হাসান ফেরদৌস। কলামের নাম দেন ‘কোকো কাহিনি’। এতে মূলত কোকোর চরিত্র হনন করা হয়।
ওই পত্রিকায় কোকোকে নিয়ে একটি সংবাদের শিরোনাম, ‘কোকোর ৬ বছরের জেল’। আরেকটি শিরোনাম, ‘কোকোর বিচার শুরু’। ওই প্রতিবেদনে কোকোর একটি কার্টুন আঁকা হয়। এতে কোকোর মাথাকে একটি মানিব্যাগের আদলে এঁকে সেই ব্যাগের চেইন খোলা রাখা হয় এবং ওই খোলা জায়গা দিয়ে টাকা-পয়সা বের হয়ে আসার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। এর মাধ্যমে কোকোকে দুর্নীতিবাজ ও টাকা পাচারকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনীতিসচেতন সাধারণ মানুষ ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, পত্রিকাটির এ রকম অসংখ্য সংবাদ প্রতিবেদন, কার্টুন ও কলামের একটাই উদ্দেশ্য ছিল, তা হলো মানুষের কাছে তারেক রহমানকে রাজনীতিতে ‘ভিলেন’ বানিয়ে তাকে ‘জিরো’ করে দেওয়া। এমন একটি খারাপ ভাবমূর্তি তৈরি করা, যাতে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ‘বরবাদ’ হয়ে যায়। এমনকি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিস্থিতি অনুকূলে পেয়ে তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকেই ‘মাইনাস’ করে দেওয়ার মহানীলনকশায় মেতে উঠেছে একের পর এক ইসলামপন্থী ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার ঘটনায় বিতর্কিত পত্রিকাটি। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মামলায় জামিন হলেও তার দেশে ফেরার পথ কণ্টকাকীর্ণ করতে বহুমুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে মতিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন পত্রিকা প্রথম আলো।


