
জুয়েল শেখ জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বটতলী ফাতেমা জহুরা মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় লাইব্রেরিয়ান ও সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মর্মে আদালতে একটি মামলা হয়েছে।
ওই উপজেলার বটতলী নামা পাড়ার বাসিন্দা মৃত. আব্দুর রশিদের ছেলে আছব আলী নিয়োগ প্রাপ্ত কামারগাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মাকছুদুল মুমিন ও নামা পাড়ার বাদেশ আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসান সহ সংশ্লিষ্ট ১০ জনের বিরুদ্ধে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, বটতলী মহিলা ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে ২০১৭এ সালের ১ আগস্ট এবং লাইব্রেরিয়ান পদে ২০২০ সালের ১৫ জুলাই লোক নিয়োগ ব্যাপদেশে বগুড়া থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকা মারফত অবগত হয়ে বাদী সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে প্রার্থী হয়ে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই সোনালী ব্যাংক ধামইরহাট শাখা ডিডি নং ৪৮০৭-৫৪৬৫৬৯৪ মাধ্যমে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর প্রেরণ করেন। নিয়ম ও বিধি বিধান মতে উক্ত পদে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে অন্যান্য প্রার্থীদের সাথে প্রতিযোগীতায় সর্বোচ্চ নম্বর পেলেও বাদী আছব আলীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
এক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে অভিযুক্তরা জাল জালিয়াতমূলক সার্টিফিকেট সরবরাহ করে নিয়োগ নেয় এবং এমপিও মতে সরকারী বেতন ভাতা গ্রহন করছেন। অভিযোগ উঠেছে- লাইব্রেরিয়ান পদে মাকছুদুল মুমিনের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ প্রদত্ত মনোগ্রাম সম্বলিত এমএসএস ইন ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড লাইব্রেরী ম্যানেজমেন্ট প্রভিশনাল সার্টিফিকেট ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট।
এছাড়াও মাহমুদুল হাসানের নামীয় ফাজিল পাশ ও গ্রন্থাগারিক ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটটি সম্পূর্ণরুপে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্টি করে নিয়োগ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে নিয়োগ বোর্ডকে লাইব্রেরিয়ান পদে ১৫ লাখ টাকা এবং সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে ১০ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে তারা নিয়োগ নেয় এবং নিয়োগপ্রাপ্তরা ইতোমধ্যেই
এমপিও মতে ২০ লাখ টাকা সরকারী কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী আছব আলী জানান, মাকসুদুল মুমিনের জমাকৃত সার্টিফিকেটটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরী করা হয়েছে। আর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভেরিফাইড করেছে। অন্যদিকে মামহমুদুল হাসানের নামীয় ফাজিল পাশ সনদটি প্রকৃতপক্ষে মশিউর রহমান নামীয় ব্যক্তির এবং গ্রন্থাগারিক ডিপ্লোমা সনদটি অন্য মাহমুদুল হাসানের নামীয়।
তিনি আরো বলেন-এতো বড় জালিয়াতির মাধ্যমে শুধুমাত্র অর্থের বিনিময়ে তারা দুজন ওই দুই পদে নিয়োগ নিয়েছেন।এ বিষয়ে লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ প্রাপ্ত অভিযুক্ত মাকছুদুল মুমিন জানান, এ ঘটনায় আদালতে একটি মিথ্যা মামলা চলমান রয়েছে।
আমার কাগজপত্র সবগুলো ঠিক আছে। তবে চুড়ান্ত রায়েই বর হয়ে যাবে আসল ঘটনা। অন্যদিকে সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগপ্রাপ্ত জেলা ছাত্র লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক মামলায় আত্মগোপনে থাকায় কোন মাধ্যমেই তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রুহুল আমিন মুফোফোনে বলেন- জাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের অভিযোগে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন আছব আলী নামে এক ব্যক্তি। পরে আদালত আমাকে এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যেই আমি আদালতে জমা দিয়েছি। এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষাই রয়েছেন বাদী ও বিবাদীরা।