
আবুল বাসার মিলন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে পৃথক পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে রিফাত আলী (১৬) ও রাসেল (১৭) নামে দুই স্কুল ছাত্র নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের প্রায় ৫ ঘণ্টা পর তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।মঙ্গলবার (৩০)জুন দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে ওই দুই স্কুল ছাত্র নদীতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। উদ্ধার হওয়া রিফাত আলী সদর উপজেলার সুন্দরপুর রউফ হাজিপাড়ার জেম আলীর ছেলে ও ইসলামপুর চর তেরোরশিয়া এলাকার আলম হোসেনের ছেলে রাসেল। তারা দুইজন ওই এলাকার সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র।
স্থানীয়রা জানান, দুপুর ১টার দিকে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে আলিমনগর ঘাটে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় নদীর স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হয় রিফাত ও রাসেল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা নদীতে নেমে উদ্ধার অভিযান চালায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার সাঈদ হাসান শুভ জানান, পদ্মায় স্কুলছাত্র ডুবে নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রিফাত ও সোয়া ৬টার দিকে রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ও বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় সাকিরুল কে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরদিকে মহানন্দা নদীতে রাবার ড্রামের কাছে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন পৌর শহরের আরামবাগ, আজাইপুর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে প্রবাসী সাকিরুল ইসলাম (৩০)। তিনি শখের বসে মাছ ধরতে গিয়ে পানির স্রোতে তলিয়ে যায়। গত মঙ্গলবার থেকে আজ বুধবার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অনেক খোঁজাখুঁজি করে যেখান থেকে নিখোঁজ হয় সেখান থেকে অনেক দূরে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে পৌর এলাকার হরিপুর দ্বারিয়াপুরের মাঝামাঝি নিমগাছিতে লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা।পরে ফায়ার সার্ভিস কে খবর দিলে লাশ আজ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে উদ্ধার করে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, পদ্মা নদীতে নিখোঁজ দুই স্কুল ছাত্রের মরদেহ গত কালকে মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয়েছে। নদীটি নৌ পুলিশের আওতায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইজনের লাশ নৌ পুলিশ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। ও মহানন্দা নদী থেকে আজ বুধবার বিকেলে নদীতে নিখোঁজ আরেকজনের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পরে ফায়ার সার্ভিস কে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস লাশটি উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৃথক পৃথক স্থানে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। প্রত্যেক অভিভাবক যেনো বাচ্চাদের প্রতি খেয়াল রাখে যাতে নদীর আশেপাশে গোসল এবং মাছ ধরতে না যায়। এখন বর্ষা মৌসুম নদীর গভীরতা ও তীব্র স্রোত থাকায় নদীতে নামলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই সবাই কে সচেতন থাকার আহবান জানান তিনি।