
শাহারুল ইসলাম ঘোড়াঘাট দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তীব্র গরমের মধ্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মিটার রিডিং না নিয়েই অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার অভিযোগ। এতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি কিংবা আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পরও বিদ্যুৎ ফিরে আসে না। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
পৌর এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের নুরনবী জানান, তার বাসাবাড়িতে সাধারণত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। কিন্তু জুলাই মাসে কোনো স্বাভাবিক কারণ ছাড়াই তার বিল দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। একইভাবে কাদিমনগর গ্রামের আসাদুল হকের মাসিক বিল সাধারণত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে থাকলেও জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৬০০ টাকায়।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী খোরশেদের দোকানে আগে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা বিল এলেও গত মাসে বিল এসেছে প্রায় ২ হাজার ২০০ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিটার রিডিং যথাযথভাবে না নিয়ে অনুমাননির্ভর বিল তৈরি করায় অনেক গ্রাহককে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের ভোগান্তি বেড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় মিল-কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ও ব্যবসা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে পারছে না। ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎহীনতার সুযোগে এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাও বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, নিয়মিত সার্ভিস চার্জ ও মিটার ভাড়া নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত গ্রাহকসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। রানীগঞ্জ শাখা রিজিওনাল অফিস ও ডুগডুগী সাব-রিজিওনাল অফিসে অভিযোগ জানাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রানীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর এজিএম মো. রকিবুজ্জামান জানান, বর্তমানে ঘোড়াঘাট উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৮ মেগাওয়াট। এ ছাড়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পিডিবি থেকেও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও মিটার রিডিং সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর ব্যাখ্যা ও দ্রুত সমাধান চান গ্রাহকরা।
ঘোড়াঘাটের ভুক্তভোগী গ্রাহক ও সচেতন মহল বলছেন, একদিকে বিদ্যুতের তীব্র সংকট, অন্যদিকে অস্বাভাবিক বিল—দুই ধরনের ভোগান্তিতে তারা নাভিশ্বাস হয়ে পড়েছেন। লোডশেডিং কমানো, সঠিক মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে বিল তৈরি, অতিরিক্ত বিল সমন্বয় এবং গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।