
আলী আজগর রবিন স্টাফ রিপোর্টারঃ
পাশাপাশি যেসব পরিবারের ঘরের দেওয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারগুলো এই ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ভূমিহীন পরিবার বলতে বোঝাবে—যাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, কিন্তু কৃষিনির্ভর। যাদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা আছে, কিন্তু কৃষিযোগ্য জমি নেই—তারাও থাকবেন ভূমিহীন পরিবারের আওতায়।
কারা পাবেন না
একই পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। যেসব পরিবার এরই মধ্যে নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সুবিধা পাচ্ছেন এবং সমন্বয়ের আওতায় আসবেন না, তারাও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না। এছাড়া সরকারি তালিকাভুক্ত এমন উপকারভোগী, যাদের তথ্য সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে যাচাই করে দ্বৈততা পাওয়া যাবে, তাদেরও ফ্যামিলি কার্ডের বাইরে রাখা হতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডে মিলবে নগদ সহায়তা
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ (Cash Support) দেওয়া হবে। এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে দেশের হতদরিদ্র (Extremely Poor) জনগোষ্ঠী এবং নারীদের (Women) সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই অর্থ সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
আবেদন করতে যা লাগবে
অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ব্যবহার করে পাইলটিং করার প্রস্তাব রয়েছে। এতে এনআইডি, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম—এ চারটি তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্ভব। ‘সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেম’–এ এরই মধ্যে ৪ কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য সংরক্ষিত আছে, যা দিয়ে এনআইডি, মোবাইল ফোন বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দ্বৈততা যাচাই করা যাবে।
এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসির আইএমইআই ডাটাবেজ, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার ডাটাবেজ এবং এমপিও শিক্ষক ডাটাবেজের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা যাবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ পাঁচটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন থাকায় সরাসরি জিটুপি (গভর্নমেন্ট টু পাবলিক) পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং সম্ভব হবে।
অর্থের সংস্থান কীভাবে
ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির ১০ লাখ ৪০ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির পল্লী অঞ্চলের ২৫ লাখ নারীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১৪ লাখ ৬ হাজার উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করলে প্রায় ১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এভাবে মোট ৫ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা সমন্বয়ের মাধ্যমে পাওয়া গেলে অবশিষ্ট অর্থ সরকারকে আলাদাভাবে বরাদ্দ দিতে হবে।
প্রাথমিক প্রস্তাবে ৮টি উপজেলায় পাইলটিং বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক যাচাই, ৭–১০ দিনের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ, এরপর পরবর্তী চারদিনের মধ্যে পে-রোল প্রস্তুত করে ভাতা বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যমান ভাতাভোগীদের এনআইডি-সংযুক্ত ডাটাবেজ ব্যবহার করলে ঈদের আগেই কার্ড বিতরণ সম্ভব।