
আবুল বাসার মিলন চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমের রাজধানীতে নবাগত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস যোগদানের পর থেকেই অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কেবল তদন্ত বা আসামি গ্রেফতারের প্রথাবদ্ধ বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে 'অপরাধ ঘটার আগেই' তা রুখে দেওয়ার এক অভিনব ও দূরদর্শী কৌশল নেওয়া হয়েছে জেলাজুড়ে। পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের যোগদানের পর জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)'র নজরদারি এবং সোর্স নেটওয়ার্ক ঢেলে সাজানো হয়েছে। যার সুফল পেতে শুরু করেছেন জেলার সাধারণ মানুষের দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাবনাকে অপরাধ, অস্ত্র ও মাদকমুক্ত করতে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর কঠোর নির্দেশনায় জেলার ৫টি থানাতেই প্রতিদিন মাদক, জুয়া, ও উঠতি বয়সের কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা দমনে একযোগে বিশেষ ‘চিরুনি অভিযান ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে জেলার সকল থানা পুলিশ। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও গভীর রাতে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোয় পুলিশের টহল জোরদার করায় জেলাজুড়ে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
এই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে নেপথ্যের কারিগর হিসেবে কাজ করছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও জেলার সকল থানার ওসি। এসপির সরাসরি দিকনির্দেশনায় ডিবি পুলিশ ও সকল থানা পুলিশ জেলার প্রতিটি আনাচে-কানাচে তাদের গোপন গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের জাল বিস্তার করেছে। এর ফলে কোনো বড় ধরনের অপরাধ, সংগঠিত ও চোরাচালানের পরিকল্পনা সফল হওয়ার আগেই ডিবি পুলিশের বিশেষ টিম অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হচ্ছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক সিন্ডিকেট ভাঙতে ডিবির এই ‘অগ্রিম অ্যাকশন’ জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচটি উপজেলায় একসময় কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের উপদ্রব ছিল এটি নিত্যদিনের ঘটনা ছিলো। তবে বর্তমান পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা পুলিশের ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান শুরু হওয়ার পর এখানকার চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। রেকর্ডসংখ্যক ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারি সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বড় অংশই এখন এলাকাছাড়া।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকরা জানান, পুলিশি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে জেলার হাট-বাজার ও বড় ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলোয় এখন নিরাপদ পরিবেশ বিরাজ করছে। অপরাধীদের মনে আইনের আতঙ্ক তৈরি থাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, "আগে থানায় ঢুকতেই ভয় লাগত, পদে পদে দালালের খপ্পরে পড়তে হতো। কিন্তু এখন পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে গেছে। গত কয়েক দিন আগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলাম, এক টাকারও প্রয়োজন হয়নি এবং পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে আমার কাজে সহযোগিতা করেছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন,
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শান্তিময় রাখা আমাদের মূল লক্ষ্য। কোনো অপরাধী বা মাদক কারবারিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে আমাদের পাঁচটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)'র সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের এই যৌথ অভিযান ও অগ্রিম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।"
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ধারাবাহিক ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলে জেলা পুলিশের এমন যুগান্তকারী ভূমিকার প্রশংসা করছেন স্থানীয় সুধী সমাজ। তাদের মতে, পেশাদারিত্ব ও জনমুখী পুলিশিংয়ের এই ধারা বজায় থাকলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আগামীতে দেশের অন্যতম শান্তিময় অঞ্চলে পরিণত হবে।