শাহারুল ইসলাম ঘোড়াঘাট দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট বাজারের এখন রাজত্ব করছে রুপালী, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, বারী-৪, বারী-১, মিশ্রি ও লাখনার মতো জনপ্রিয় সব জাত| ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠেছে ঘোড়াঘাট থানা সংলগ্ন অস্থায়ী এই মৌসুমী ফলের হাট|
ভয়েজওভারঃ- উত্তরের শান্ত জনপদ দিনাজপুরের ঘোড়াঘটে ভোর থেকেই সুমিষ্ট আম মিশ্রি (মিশ্রিভোগ), বোম্বে, কাটিমন, হিমসাগর, রুপালী, গোপালভোগ, ল্যাংড়া ,বারী-৪ প্রচুর আমদানি হচ্ছে| মূলত ফজরের নামাজের পরপরই ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে এই হাটের মূল বেচাকেনা| মাত্র তিন সপ্তাহ আগে শুর হওয়া এই হাটে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইজারাদাররা| ঘোড়াঘাটের ঐতিহ্যবাহী মিশ্রি আমের বিশেষ কদর থাকায় আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা এখানে ভিড় জমাচ্ছেন| আমের পাশাপাশি লিচু, কাঁঠাল ও লটকনও বিক্রি হচ্ছে জোরেশোরে| এ বছর আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজার দর নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে| বাগান মালিক ও আড়তদারদের অভিযোগ, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকা এবং দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পর্যাপ্ত পাইকার না আসায় তারা আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না| দিন ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে আমের দাম ঘন ঘন ওঠানামা করছে| তবে খুচরা ক্রেতা ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা ন্যায্য দামে সুস্বাদু আম কিনতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন| চাহিদার কারণে আড়তদার ও বেপারীরা এখান থেকে আম প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন| এই মৌসুমী ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে| অনেক বেকার যুবক ও মৌসুমী ব্যবসায়ী আম বাণিজ্যে যুক্ত হয়েছেন| বাজারের পাশাপাশি সড়কের পাশেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য অস্থায়ী দোকান| বাগান মালিকরা গাছ থেকে আম পেড়ে সরাসরি ক্যারেটে করে রাস্তার পাশে সাজিয়ে রাখছেন, যা দূরপাল্লার যাত্রী ও পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করছে|
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই অঞ্চলের আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে| এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডাক বিভাগের গাড়ি এবং ট্রেনের মাধ্যমে কম খরচে বিভিন্ন জেলায় আম পরিবহনের সুবিধা পাওয়ায় চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন| কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আশা, মৌসুমের শেষ নাগাদ কৃষকরা আমের সঠিক মূল্য পাবেন|
এদিকে স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের মতে, এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয় মৌসুমী আমের বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে| ভবিষ্যতে এখানে আমভিত্তিক হিমাগার ও শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে এবং আম রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হলে চাষিরা অনেক বেশি লাভবান হতে পারবেন|


